নতুন ই পাসপোর্ট আবেদন করতে চাচ্ছেন কিন্তু পাসপোর্ট করতে কী কী কাগজপত্র লাগে জানেন না? পাসপোর্ট আবেদন করতে যেসব কাগজ লাগবে সেগুলোর তালিকা পাবেন এই পোস্টে।
ভোটার আইডি কার্ড/জন্ম নিবন্ধন সনদ, ইউটিলিটি বিলের কপি, পিতা-মাতার ভোটার আইডি কার্ডের কপি সহ আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র লাগে পাসপোর্ট আবেদন করার সময়। বিভিন্ন বয়সের/পেশার ব্যক্তির পাসপোর্ট করতে ভিন্ন ধরনের কাগজপত্র লেগে থাকে।
ই পাসপোর্ট করতে কি কি কাগজপত্র লাগে বিস্তারিত জানতে শেষ অব্দি পড়ুন।
এই পোস্টের বিষয়বস্তু
ই পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে
ই পাসপোর্ট করতে আবেদনকারীর ভোটার আইডি কার্ড/জন্ম নিবন্ধন সনদ, পিতা-মাতার ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি, ইউটিলিটি বিলের কপি, 3R সাইজের ছবি এবং নাগরিক সনদপত্র সহ আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট লেগে থাকে।
পাসপোর্ট আবেদন করার সময় আবেদনকারী ব্যক্তির বয়স/পেশার উপর ভিত্তি করে ভিন্ন ধরনের ডকুমেন্ট লেগে থাকে। আবেদনকারী ব্যক্তি বিবাহিত হলে নিকাহনামা প্রয়োজন হয়। আবেদনকারী যদি সরকারি পেশাজীবী হয়, সেক্ষেত্রে NOC প্রয়োজন হয়।
আবার, বাচ্চাদের ই পাসপোর্ট আবেদন করার জন্য জন্ম নিবন্ধন সনদ হলেই চলে। তাদের ক্ষেত্রে ভোটার আইডি কার্ড লাগেনা। এছাড়াও, ভিন্ন ধরনের ডকুমেন্ট প্রয়োজন হয়ে থাকে। নিচে আরও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
প্রাপ্তবয়স্কদের ই পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে
১৮ বছর বয়স বা তার বেশি বয়সের কেউ ই পাসপোর্ট আবেদন করতে চাইলে যেসব ডকুমেন্ট লাগবে সেগুলো নিচে একটি তালিকায় উল্লেখ করে দেয়া হয়েছে। পাসপোর্ট আবেদন করার সময় অবশ্যই এসব ডকুমেন্টের সাথে মিল রেখে ফরম পূরণ করতে হবে। অতঃপর, আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে পাসপোর্ট আবেদনের কপি সহ এসব ডকুমেন্ট জমা দিতে হবে।
- শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণ হিসেবে পরীক্ষার সার্টিফিকেট অথবা শিক্ষার্থী আইডি কার্ড।
- গ্যাস, বিদ্যুৎ বা পানির মতো যেকোনো একটি ইউটিলিটি বিলের অনুলিপি।
- ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে আবেদন ফি জমা দেওয়ার পর প্রাপ্ত এ-চালানের কপি।
- পিতা এবং মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি।
- স্বামী বা স্ত্রীর জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি (যারা বিবাহিত)।
- স্থানীয় নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য নাগরিক সনদপত্র।
- বিবাহিত আবেদনকারীদের জন্য কাবিননামা বা নিকাহনামার কপি।
- আবেদনকারীর নিজের ভোটার আইডি কার্ডের একটি ফটোকপি।
- এক কপি 3R সাইজের রঙিন ছবি।
বাচ্চাদের ই পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে
১৮ বছর বয়স বা তার কম বয়সের কারো জন্য পাসপোর্ট প্রয়োজন হলে পাসপোর্ট আবেদন করার সময় গুরুত্বপূর্ণ কিছু ডকুমেন্ট লাগে। ১৮ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে ভোটার আইডি কার্ডের পরিবর্তে জন্ম নিবন্ধন সনদ দিতে হয়। নিচে এসব ডকুমেন্টের একটি তালিকা দেয়া হলো।
- আবেদন ফি ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে জমা দিয়ে প্রাপ্ত এ-চালানের একটি কপি।
- শিশুর টিকাদান কার্ড।
- নাগরিক সনদপত্র।
- অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদের একটি কপি।
- 3R সাইজের রঙিন ছবি।
- পিতা-মাতার ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি।
আপনার বয়স ১৮ বছর হওয়ার পর ভোটার নিবন্ধন করতে পারবেন। ভোটার নিবন্ধন করার পর অনলাইনেই ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করতে পারবেন এবং সেটি ব্যবহার করে পাসপোর্ট আবেদন করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে, জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রয়োজন হবেনা।
বিবাহিতদের পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে
সাধারণত পাসপোর্ট আবেদন করার সময় একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির যেসব ডকুমেন্ট প্রয়োজন হয়, সেসবই একজন বিবাহিত ব্যক্তির জন্যও প্রযোজ্য। তবে, বিবাহিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে বিয়ের নিকাহনামার একটি কপি প্রয়োজন হয়। নিকাহনামার পাশাপাশি স্বামী/স্ত্রীর ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি প্রয়োজন হতে পারে।
এগুলো ছাড়া বিবাহিতদের পাসপোর্ট আবেদন করতে ভিন্ন কোনো ডকুমেন্ট লাগেনা।
আরও পড়ুন –
সরকারি চাকুরীজীবীদের পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে
সরকারি চাকুরীজীবীদের ক্ষেত্রে ই পাসপোর্ট আবেদন করার সময় একটি ডকুমেন্ট অতিরিক্ত লেগে থাকে। NOC (No Objection Certificate) অথবা GO (Government Order) । সাধারণত বেসরকারি চাকুরীজীবীদের ক্ষেত্রেই এই ডকুমেন্ট প্রয়োজন হয়ে থাকে।
তবে, ভিন্ন কোনো পেশার ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এসব ডকুমেন্ট প্রয়োজন হবেনা। চাকুরীজীবীদের ক্ষেত্রে যেসব ডকুমেন্ট লাগে সেগুলোর তালিকা নিম্নরূপ —
- পিতা ও মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি।
- শিক্ষার্থী আবেদনকারীদের জন্য পরীক্ষার সনদপত্র অথবা স্টুডেন্ট আইডি কার্ড।
- অনাপত্তিপত্র (NOC) বা সরকারি আদেশ (GO)।
- আবেদনকারীর নিজের ভোটার আইডি কার্ডের একটি অনুলিপি।
- বিবাহিত আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে স্বামী বা স্ত্রীর জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি।
- নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে নাগরিক সনদপত্রের একটি কপি।
- বিবাহিত হলে কাবিননামা বা নিকাহনামার ফটোকপি।
- গ্যাস, বিদ্যুৎ বা পানির মতো যেকোনো একটি ইউটিলিটি বিলের কপি।
- এক কপি 3R সাইজের ছবি।
- আবেদন ফি ব্যাংকের মাধ্যমে জমা দেওয়ার পর প্রাপ্ত এ-চালানের কপি।
৫ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে
৫ বছর মেয়াদি ই পাসপোর্ট আবেদন করতে চাইলে ব্যক্তিগত পেশা এবং বয়সের উপর ভিত্তি করে ডকুমেন্ট লাগবে। তবে, পাসপোর্টের মেয়াদ ৫ বছর হওয়ার কারণে পাসপোর্ট আবেদন ফি ৫ বছরের জন্য দিতে হবে। এক্ষেত্রে, ৫ বছরের পাসপোর্ট আবেদন ফি ডেলিভারির ধরনের উপর ভিত্তি করে এ চালান এ দিতে হবে।
অর্থাৎ, পাসপোর্ট আবেদন করার পর পাসপোর্ট আবেদনের কপির সাথে পাসপোর্ট ফি জমাদানের এ চালান কপি এবং গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট একসাথে করে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে জমা দিতে হবে।
১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে
১০ বছর মেয়াদি ই পাসপোর্ট আবেদন করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টের সাথে ১০ বছর মেয়াদের পাসপোর্ট ফি ডেলিভারির ধরনের উপর ভিত্তি করে এ চালান এর মাধ্যমে জমা দিতে হবে। এরপর, এ চালানের কপির সাথে পাসপোর্ট আবেদনের কপি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র জমা দিতে হবে।
অর্থাৎ, ১০ বছর মেয়াদের ই পাসপোর্ট আবেদন করার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র পাসপোর্ট ফি এর পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে।
শেষ কথা
ই পাসপোর্ট আবেদন করতে কি কি কাগজপত্র লাগে তা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে এই পোস্টে। যারা ই পাসপোর্ট আবেদন করতে চাচ্ছেন কিন্তু কী কী ডকুমেন্ট লাগে জানেন না, তারা পোস্টটি সম্পূর্ণ পড়লে ভিন্ন বয়সের এবং ভিন্ন পেশার ব্যক্তির জন্য কী কী ডকুমেন্ট লাগবে তা জানতে পারবেন।
FAQ
এনআইডি কার্ড ছাড়া পাসপোর্ট আবেদন করতে পারবো?
আপনার বয়স যদি ১৮ বছরের কম হয়ে থাকে, তাহলে এনআইডি কার্ড ছাড়াও পাসপোর্ট আবেদন করতে পারবেন। এক্ষেত্রে, আপনার জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রয়োজন হবে।
পাসপোর্ট আবেদন করার কতদিন পর পাসপোর্ট পাওয়া যায়?
পাসপোর্ট আবেদনের সময় ডেলিভারির ধরন অনুযায়ী পাসপোর্ট ফি কমবেশি হয়। ডেলিভারির ধরনের উপর ভিত্তি করে সময় কমবেশি হয়ে থাকে।
ই পাসপোর্ট আবেদন করতে কত টাকা লাগে?
ই পাসপোর্ট আবেদন করতে পাসপোর্টের মেয়াদ এবং ডেলিভারির ধরনের উপর ভিত্তি করে টাকার পরিমাণ কমবেশি হয়ে থাকে।



